25 June 2010

বিপন্ন বাংলা


বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মৃত্যু হয়েছে এই বন্য হাতিটির। চট্টগ্রামের সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছোট হাতিয়ার পাহাড়ি এলাকায় (২৩ জুন,২০১০) বুধবার রাতে হাতিটি মারা যায়। বুধবার রাতে হাতির একটি পাল ছোট হাতিয়া এলাকায় লোকালয়ে হানা দেয়। পরে গ্রামের লোকজন মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হাতির পালটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।তবে এ সময় ছোট হাতিয়া এলাকায় একটি সেচপাম্পে নেওয়া বৈদ্যুতিক তারের খুঁটির সঙ্গে ঝুলন্ত ছেঁড়া তারে জড়িয়ে একটি হাতিটির মৃত্যু হয়। ছবিটি তোলার সময় দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা মৃত হাতির পায়ের নখগুলো উপড়ে নিয়ে গেছে।

ছবি : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

21 June 2010

একজন হাজারী, কয়েকটি বাঘ এবং কিছু কথা

গত ২৮ মে, ২০১০ (শুক্রবার) “দৈনিক আমাদের সময়” পত্রিকায় জয়নাল হাজারীর একটি লেখা ছাপানো হয় যার শিরোনাম ছিল “বাঘ রক্ষা নয়, ধ্বংস করব”। শিরোনামে প্রবন্ধটির যে সারমর্ম প্রকাশ পাচ্ছে, প্রবন্ধের ভেতরে ঠিক সে ভাবটিই প্রকাশ করেছেন জনাব জয়নাল হাজারী। প্রবন্ধের কিছুটা অংশ তুলে ধরলামঃ-

“.................... বাঘ সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী হরিণ খায়, মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রাণী গরু, মহিষ, ছাগলসহ সবই মেরে খেয়ে ফেলে। .................... বাঁচিয়ে রেখে নয়, বরং সব বাঘ মেরে ফেলে ওদের চামড়া দিয়ে জুতা তেরি করা হোক। ওদের চামড়া ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা হোক। ....................আমি বাঘ রক্ষার বিরুদ্ধে শুধু সাধারণ অবস্থান নয়, এর বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে তুলব।”

বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে যে বাঘরক্ষা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে এবং বিশ্ব ব্যাংক তাতে অর্থ সহায়তা দেবে এই প্রেক্ষিতে এই প্রবন্ধটি লেখা হয়।

প্রকাশিত এই প্রবন্ধটি যে, প্রাবন্ধিকের সাংঘাতিক নির্বুদ্ধিতা, ঘোরতর অজ্ঞতা, অসচেতনা, এবং আমাদের দেশের এক অন্ধকার ভবিষ্যতের উজ্জল নিদের্শক তা যে কোন স্বল্পশিক্ষিত (হয়ত, অশিক্ষিত) ব্যক্তিরও বোঝার কথা, বর্তমানে ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণীর যে কোন ছাত্রছাত্রী খুব পরিস্কারভাবে এটা জানে যে, পরিবেশের প্রতিটি প্রাণীর, প্রতিটি উদ্ভিদের প্রতিটি প্রজাতি একটি বৃহৎ খাদ্য শৃঙ্খল (Food Chain) এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই খাদ্য শৃঙ্খল প্রতিটি জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন একটি প্রজাতির বিলোপসাধনে ঐ অঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্য অনেক পরিবর্তন আনবে যার দ্বারা ঐ অঞ্চলের মনুষ্য সম্প্রদায়ের ক্ষতিও হবে ব্যাপক, এমনকি ঐ অঞ্চল মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হওয়া মোটেও বিচিত্র নয়। হরিণ আছে বলেই বাঘ আছে, বাঘের অনুপস্থিতিতে সুন্দরবনে হরিণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে যা সুন্দরবনের গোটা বাস্তুতন্ত্রকেই বিপর্যয় করে তুলবে। মনুষ্যসৃষ্ঠ বিভিন্ন কারণে যখন বনাঞ্চলে বাঘ তার খাদ্য আহরণে ব্যর্থ হয় কেবল তখনই বাঘ লোকালয়ে আসতে বাধ্য। অর্থাৎ বাঘের লোকালয়ে আগমনের পেছনে মূল প্রভাবক মানুষ। ঐ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অথবা অন্য কোন শক্তি যা খাদ্য শৃঙ্খল নষ্ট করছে। বংলাদেশে মূলত শেষোক্ত কারণটিই বেশি সক্রিয়। বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সরকারের উদাসীনতাও অনেক বড় কারণ। এটি আরও বড় সত্য যে, যেসব বাঘ খাদ্য অন্বেষণে লোকালয়ে এসে পড়ে, তাদের অনেকেরই আর বনে ফেরা হয় না। পরদিন পত্রিকার শেষ পাতায় কোন এক অঞ্চলে গ্রামবাসীর হাতে কোন এক বাঘের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। হয়ত জয়নাল হাজারীদের ইচ্ছা পূরণে সেই হতভাগ্য বাঘদের চামড়া তাদের বৈচিত্র্যখানার দেয়ালে ঝোলানো হয়, যা পক্ষান্তরে সে গৃহস্থের রুচিহীনতার এক উজ্জ্বল প্রমান। লক্ষ কোটি প্রজাতির বাসস্থান এই পৃথিবীর জন্য হুমকি যদি কোন প্রজাতি হয়ে থাকে তবে তা মানুষ। (নিন্দুকেরা বলে থাকে, এই প্রজাতিটির কিছু সদস্যকে পৃথিবী থেকে বিলোপ সাধনে প্রাবন্ধিকের একটি বড় ভূমিকা আছে।)

বলবার অপেক্ষা রাখে না যে,“আমাদের সময়” দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা এবং জনাব জয়নাল হাজারীও এদেশে অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তিত্ব, তার কারণ যাই হোক। একটি দেশের এত প্রচারিত একটি দৈনিকে যখন এতটা উদ্ভট, হাস্যকর প্রবন্ধ ছাপায় তখন তা শুধু ঐ পত্রিকা বা প্রাবন্ধিকের নয়, বরং পুরো দেশের মনস্কতা ও বিজ্ঞানচর্চার প্রতি একটা মানহানীকর বিদ্রুপ করে। ব্যক্তিগতভাবে অমি মনে করি,“ আমাদের সময়” কর্তৃপক্ষ সেটা জানেন।

বর্তমান বিশ্বে আর দশটা প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো “তথ্য” একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। এবং দেশের পুরো মিডিয়া (সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি) বিভিন্নভাবে তা জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। তথ্য পেয়ে যেখানে মানুষের সচেতন হবার কথা, সেখানে তা না হয়ে সম্পূর্ণ উল্টোটাই হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের নূন্যতম জ্ঞান ছাড়াই একজন জয়নাল হাজারী “দৈনিক হাজারিকা” ও “সাপ্তাহিক হাজারিকা” নামের দুটি পত্রিকার সম্পাদক পদে নিজেকে অধিষ্ঠত করেন। কেবল অর্থ ও ক্ষমতার জোরে শেষোক্ত পত্রিকাটি “দৈনিক আমাদের সময়” এর সাথে সপ্তাহে একদিন দেয়া হয়। সেই পত্রিকার সংবাদ ও সংবাদ লেখবার কায়দা কানুনও অনেকটাই অদ্ভুদ। তবে কি আমরা, পাঠকরা, ধরে নেব “আমাদের সময়” এর কোন ফান ম্যাগাজিন নেই বলে, এটি তারই বিকল্প ? যদি তাই হয়, তবে পাঠকের কাছে সে সত্য প্রকাশ করা উচিৎ, কেন মিছেমিছি আমরা বিভ্রান্ত হব?

জনাব জয়নাল হাজারী এমন কেন করেছেন জানি না, হয়ত বাঘের প্রতি যুক্তিহীন ক্রোধের বর্শবর্তী হয়ে, অথবা নিজেকে কোন ভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসতে। যদি কারণ প্রথমটি হয়, তবে শুনুন অতীত ও সাম্প্রতিক ইতিহাস বলে বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়নে তৃতীয় বিশ্বের প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগের পরিণিতিই বড় নির্মম। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আবার হলে আপনার চক্ষুশূল বাঘদের সংখ্যাবৃদ্ধি নয়, বরং উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবার কথা। আর যদি যে কোনভাবে হোক সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা তার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে পত্রিকা সম্পাদকের এ সুযোগ দেয়া উচিৎ হয়নি। পাঠকের প্রতি এ বড় অবিচার।

এটা নিশ্চিত যে, একদিন জনগণ সচেতন হবেই, নিজের সঠিক তথ্যের অধিকার তারা নিশ্চিত করবে, যেদিন এদেশে পরিকল্পিত কোন তথ্য বিভ্রান্তি থাকবে না, থাকবে না পরিবেশে ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার নামে সাম্রাজ্যবাদী শঠতা। দেশ আবার হয়ে উঠবে ধনধান্য পুষ্পেভরা এবং নানা প্রজাতির মিলনমেলা। হয়ত সেদিনের আর বেশি দেরি নেই।


মাহির দায়ান আমিন
অনুসন্ধিৎসু চক্র, মিরপুর শাখা

23 May 2010

প্রাণবৈচিত্র্য: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ



‘বিদেশী গাছে আমাদের দেশী প্রাণী বাঁচবে কী করে?’ ২২ মে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এমেরিটাস কাজী জাকের হোসেন। ‘প্রাণবৈচিত্র্য: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম এবং ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট, বাংলাদেশের সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার এডাম বারলো ও ক্রিস্টিনা গ্রীনউড।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি সেমিনার কক্ষে উক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় ড. কাজী জাকের হোসেন বলেন, একটি গাছের উপর নির্ভর করে ১০ ধরনের প্রাণী বেঁচে থাকে। তিনি বলেন, একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি ইত্যাদি বিদেশী গাছ বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, এগুলোর উপর নির্ভর করে আমাদের দেশী প্রাণীসমূহ বাঁচতে পারেনা। ড. হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ৮-৯% বনভূমি আছে এবং এ বনভূমির ৮০%-ই মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদির মনোকালচার ফরেস্ট। এসব মনোকালচার ফরেস্টে কেবল এক ধরনের গাছ লাগানো হয়, অন্য সমস্ত প্রজাতির গাছ ধ্বংস করা হয়। তদুপরি, বিদেশী গাছ হওয়ার দরুন এগুলো আমাদের দেশী প্রাণীর জন্য খাদ্যের যোগান দিতে পারেনা। এভাবে বিদেশী গাছ-নির্ভর মনোকালচার ফরেস্ট বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী তথা বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যেকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে। ড. হোসেন আরও বলেন, আমাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব; এটি কোন অসাধ্য কাজ নয়। কোন একটি এলাকার পরিবেশকে আমরা যদি কোনভাবে স্পর্শ না করে ফেলে রাখি, তবে ধীরে ধীরে তা প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে পায়।
সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এডাম বার্লো বলেন, বাঘের জীবনবৈচিত্র্য প্রাণবৈচিত্র্য এবং তার গত শতকের চেয়ে এই শতকে বাঘের পরিমাণ প্রায় সিংহভাগ হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সুন্দরবনের বাঘ ভারতের বা নেপালের বাঘের তুলনায় অনেক ছোট। তার সম্ভাব্য কারণ, বাংলাদেশে বাঘের জন্য যে শিকার পাওয়া যায়, অর্থাৎ চিত্রা হরিণ আকারে ছোট। অতএব, আমরা যদি ভাবি সুন্দরবনের বাঘ শেষ হয়ে গেলে অন্য জায়গা থেকে বাঘ এনে ছাড়া যাবে - সেটা ভুল হবে। এটা সম্ভব নয়; কারণ অন্য এলাকার বাঘ সুন্দরবনে বাঁচতে পারবে না; তা অন্য পরিবেশে বাস করতে অভ্যস্থ। ড. শেখ তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশে প্রাণবৈচিত্র্য হ্রাসের উপর তার গবেষণালদ্ধ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য ২০০২ সালে পৃথিবীর ২০০ টি দেশের প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাধারণ সভায় এক সিদ্ধান্তে ২০১০ সালকে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য বর্ষ হিসেবে ঘোষনা করে। আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য বর্ষ ২০১০ উপলক্ষে দেশের বৃহত্তম বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র যে বছর-ব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তার অংশ হিসেবে চক্র এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

04 May 2010

লুইজিয়ানা উপকূল - পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্য নাম

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) ইজারাধীন ডিপওয়াটার হরাইজন নামের প্লাটফর্মে ২০ এপ্রিল বড় ধরনের বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। এরপর ২২ এপ্রিল একপর্যায়ে জ্বলন্ত প্লাটফর্মটি ডুবে যায়। ওই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে দৈনিক তিন লাখ ৩৬ হাজার গ্যালন তেল উত্তোলন করা হতো। বিস্ফোরণের আগে অর্ধনিমজ্জিত প্লাটফর্মটিতে সাত লাখ গ্যালন (২৬ লাখ লিটার) জ্বালানি তেল ছিল। ডুবে যাওয়া সেই তেল উত্তোলন করার প্লাটফর্ম থেকে এখন দৈনিক পাঁচ হাজার ব্যারেল (দুই লাখ ১০ হাজার গ্যালন) তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ওই প্লাটফর্ম থেকে দৈনিক এক হাজার ব্যারেল তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছিল।

অ্যাডমিরাল ম্যারি ল্যান্ড্রি জানান(২৯ এপ্রিল,২০১০), এখন সাগরে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ব্যারেল তেল (দুই লাখ ১০ হাজার গ্যালন) ছড়িয়ে পড়ছে। প্লাটফর্মটিতে তৃতীয় আরেকটি ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে সাগরে অনবরত চুয়ে পড়ছে তেল। ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে রোবট ডুবোজাহাজ দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তা সফল হচ্ছে না। নিঃসরণ অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন সাগরের বিস্তর এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ছে। শেষ খবর অনুযায়ী প্রায় ৭৪ হাজার ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়েছে।

কানাডার তেলকূপ অগ্নিনির্বাপক কম্পানি 'সেফটি বস'র প্রধান মাইক মিলার বলছেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিঃসরণ বন্ধ করা না গেলে আগামী দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ গ্যালন তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ১৯৮৯ সালের আলাস্কায় ইক্সন ভালদেজ তেল বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পরিবেশ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে এর আগে কোস্টগার্ড তেল ছড়িয়ে পড়া সাগরের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। কর্মকর্তারা বলছেন, মিসিসিপি নদীর পূর্ব দিকে তেল ছড়িয়ে পড়া সাগরের পৃষ্ঠে ৫০ কিলোমিটার এলাকায় 'নিয়ন্ত্রিত আগুন' ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাইক মিলার এ পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি নয় বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আসল বিষয় হচ্ছে, তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশবিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাবে উপকূলের আশপাশের বিভিন্ন প্রাণী বিষাক্ত গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।


লুইজিয়ানার গভর্নর ববি জিন্দাল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি সহায়তা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

29 April 2010

বয়সী কিছু বটবৃক্ষের কথা

মল্লিকপুরের বিশ্ব বটগাছ [ঝিনাইদ]

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুইতলা মল্লিকপুর গ্রামের বটগাছটি যেন দিগন্ত ছুঁতে চায়। কালীগঞ্জ সদর থেকে পাকা রাস্তা মল্লিকপুর ছুঁয়েছে। ছয় কিলোমিটার গেলে চোখে পড়ে সবুজের পাহাড়। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে বিশ্ব বটগাছ। গাছটির বয়স কমপক্ষে ৩০০ বছর। বটগাছের পাশেই ছোট্ট বাজার। এই গাছের নিচে একসময় কুমারপল্লী ছিল।একসময় এখানে একটি কুয়া ছিল। এই কুয়ার মধ্যে গাছটি জন্মায়। বর্তমানে ৪ হেক্টর জায়গাজুড়ে গাছটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। একসময় গাছটির দুই হাজার ঝুরি ছিল। এখন কমে কয়েক শ হয়েছে। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এর নিচে পূজা হয়। বন বিভাগের একজন কর্মী বিশ্ব বটগাছের পাহারাদার। এখানে জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো রয়েছে।
(তথ্যসূত্র : ফখরে আলম, যশোর)

মিরপুরের অচিন বৃক্ষ

গাছটিকে সবাই বলে অচিন বৃক্ষ। অথচ যে কেউ দেখে বলতে পারবে, এটি একটি বটগাছ। চেনা গাছটির এমন নাম কেন হলো, তার সঠিক জবাব দিতে পারেনি কেউ।গাছের নিচে একটি সিমেন্টের ফলকে গাছটির বয়স ১৬৫ বছর লেখা। উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা এর সমর্থন করেননি। তাঁদের ধারণা, এর বয়স ১০০ বছর বা কিছু কমবেশি।
কাছেই থাকে কয়েকটি হিন্দু পরিবার। তারা একে দেবতা মানে। পৌষসংক্রান্তির দিন এই গাছে বুড়াবুড়ির পূজা দেওয়া হয়। গাছের গুঁড়ির মধ্যখানে বুড়ির প্রতিমা রেখে খাবার, কবুতরসহ নানা সামগ্রী উৎসর্গ করে তারা।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে চটবাড়ি এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ে গাছটির অবস্থান। মিরপুর এক নম্বর থেকে রিকশাওয়ালাকে চটবাড়ি বটতলা বললে সোজা সেখানে নিয়ে যাবে।
(তথ্যসূত্র : মোহাম্মদ আসাদ)

বটতলীর বটগাছ [আলুটিলা, খাগড়াছড়ি]

জনশ্রুতি রয়েছে, যিনি এ বটবৃক্ষের তলায় বসে ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগাবেন, তিনি শতবর্ষী হয়ে যাবেন। এ আশায় বটগাছের নিচে অনেকেই কিছু সময় কাটিয়ে সুখ অনুভব করেন।
স্থানীয় লোকজন জানায়, স্বাধীনতার বছরেও তারা বাপ-দাদার কাছে শুনেছেন বটগাছটি শত বছর আগের। তখন ত্রিপুরা আদিবাসীরা বটগাছটি ঘিরে পূজা অর্চনা করত। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুরিমূল কালের পরিক্রমায় একেকটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। গাছটি থেকে এলাকার নাম হয়েছে বটতলী।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার আলুটিলায় এর অবস্থান। খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছার ২০ কিলোমিটার আগে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর। সেখান থেকে আরো চার কিলোমিটার সামনে ১০ নম্বর হয়ে ট্যাক্সি বা নিজস্ব যানবাহনে বটতলী যেতে সময় লাগে ১৫ মিনিট।
(তথ্যসূত্র : মুহাম্মদ আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি)

দেবালয়টেকের বটগাছ [নরসিংদী]

নরসিংদী সদর উপজেলার সোনর গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের মাঝে দেবালয়টেকে প্রায় তিন বিঘা জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি শতবর্ষী বটগাছ। গাছটির ঝুরিমূল থেকে সৃষ্টি হয়েছে আরো ২২টি বিভিন্ন আকারের বটগাছ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছটির পরিধিও বাড়ছে।
কথিত আছে, এই গাছে দেব-দেবী থাকে। কেউ গাছের কোনো অংশ কাটলে সে মারা যায়। গাছটির মালিকদের একজন নৃপেন্দ্র পাল বলেন, বহু আগে থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের ২ তারিখে এই গাছের তলে মেলা বসে।
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে প্রথমে যেতে হবে নরসিংদীর পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে। বাসস্ট্যান্ড থেকে সোনরে পৌছতে রিকশায় সময় লাগবে ১০ মিনিট। রিকশা থেকে নেমে মেঠো পথে দুই মিনিট হাঁটলেই আপনি পৌছে যাবেন দেবালয়টেকে।
(তথ্যসূত্র : সুমন বর্মণ, নরসিংদী)